রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে হিট স্ট্রোকে আলাউদ্দিন আলম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলাউদ্দিন আলম কেশরহাট পৌর এলাকার বাকশৈল গ্রামের নাসের আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহে অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। সেখানে পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা ব্যবস্থা, ছায়া কিংবা পানির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কৃষক আলাউদ্দিন আলম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তেল সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, “যদি সঠিকভাবে তেল বিতরণ ও লাইনের ব্যবস্থাপনা করা হতো, তাহলে হয়তো এমন একটি প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।”
এদিকে, কেশরহাট ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে আরও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ২১ এপ্রিল রাতে ১ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রির পরও প্রায় ৩ হাজার লিটার মজুদ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে তা বিক্রি করা হয়নি। ডিজেল নিতে আসা লোকজনকে ‘তেল শেষ’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় অবস্থিত মৌসুমি ফিলিং স্টেশনেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দকৃত ডিজেল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গভীর রাতে বেশি দামে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ কৃষক ও যানবাহন মালিকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মোহনপুর থানা পুলিশের এসআই ইয়ামিন আলী বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “তিনি হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প মালিকদের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সময়মতো তেল না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষক ও যানবাহন মালিকরা।
এ জাতীয় আরো খবর..