মোঃ শাহীন সাগর, রাজশাহী: রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশু পালন এখন শুধু পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর উপায় নয়, বরং নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে নারী ও দিনমজুর পরিবারগুলো গরু-ছাগল পালনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্ন দেখছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাওয়া বহু পরিবার এখন ছোট পরিসরে গরু বা ছাগল পালন করে বাড়তি আয় করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই খামার পরিচালনার দায়িত্ব নারীদের কাঁধে। মাঠের ঘাস, ধানের খড় ও স্থানীয় খাদ্য উপকরণ ব্যবহার করেই কম খরচে পশু পালন সম্ভব হওয়ায় দিনদিন এ খাতে আগ্রহ বাড়ছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের নারীরা জানান, স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা পশুপালনই এখন তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনেছেন, আবার কেউ সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা ঋণ পরিশোধ করে নতুন গরু কিনতে সক্ষম হয়েছেন।
তানোর উপজেলার এক গৃহিণী জানান, কয়েক বছর আগে দুইটি ছোট গরু কিনে পালন শুরু করেন তিনি। এক বছর লালন-পালনের পর কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করে লাভবান হন। সেই লাভ দিয়েই ধীরে ধীরে খামার বড় করেছেন। এখন তার পরিবারে আর আগের মতো আর্থিক সংকট নেই।
স্থানীয় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রামীণ নারীদের এই উদ্যোগ শুধু পরিবার নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর চাহিদা বাড়ায় খামারিরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহী বিভাগে কোরবানির জন্য বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে অনেক খামারি এবারও লাভের আশায় আছেন।
তবে খামারিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভারতীয় গরু আবার অবাধে দেশে প্রবেশ করলে স্থানীয় ক্ষুদ্র খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে রাজশাহীর গ্রামীণ নারীদের এই সাফল্য আরও বিস্তৃত হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..