রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা পরিষদের পুরোনো ভবনের দোতলায় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ছাদের প্রায় সাত ফুট অংশ ধসে পড়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে অফিস চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের কংক্রিটের অংশটি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ধসে পড়ে। তবে ওই সময় কার্যালয়ে না থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আলী রেজা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি বর্তমানে বাগমারা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ঘটনার সময় তিনি মোহনপুরের কার্যালয়ে ছিলেন না। তবে ছাদ ধসে তার ব্যবহৃত কম্পিউটার, টেবিলের ওপরের কাচসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
ঘটনার সময় উপজেলা পরিষদের পুরোনো ভবনের নিচতলায় সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসেছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীমকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দোতলায় ছুটে যান। সেখানে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ছাদ ধসে পড়ার দৃশ্য দেখে তারা হতবাক হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার। পরে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রকিব হাসান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট এসএম মালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা পরিষদের পুরোনো ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম চলছে। ভবনটির নিচতলায় সমাজসেবা, কৃষি ও মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং হলরুম রয়েছে। দোতলায় রয়েছে হিসাবরক্ষণ, যুব উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ছাদ ধসের সময় যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভবনটির অন্যান্য অংশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তারা। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলো নিরাপদ ভবনে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলা পরিষদের এই পুরোনো ভবনটি ১৯৬৭ সালে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ভবনটির বিভিন্ন অংশের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পুরোনো ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদের অংশ অপসারণ করে নতুন ছাদ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’
এ জাতীয় আরো খবর..