রাজশাহী প্রতিনিধি: পড়াশোনার পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কৃষি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন রাজশাহীর এক তরুণ। যেখানে অধিকাংশ তরুণ চাকরির পেছনে ছুটছেন, সেখানে নিজস্ব স্বপ্ন আর সাহসকে পুঁজি করে আঙুর চাষে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত গড়েছেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী রাহুল আহমেদ (২৬)।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামে প্রায় ১০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তুলেছেন আধুনিক পদ্ধতির একটি ব্যতিক্রমধর্মী আঙুর বাগান। ‘সখের আঙুর বাগান’ নামের এই বাগানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের লাল ও সবুজ আঙুরের সমারোহ এখন স্থানীয়দের কাছে বেশ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা আঙুর। বাগানজুড়ে যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বাগান দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন, আবার অনেকে সরাসরি বাগান থেকেই আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে প্রতি কেজি আঙুর প্রায় ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন রাহুল। শুধু ফল বিক্রিই নয়, আঙুরের কাটিং, কলম ও চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তিনি। প্রতি চারা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এই তরুণ উদ্যোক্তা।
রাহুল আহমেদ বলেন, “শুরুতে অনেকে বলেছিলেন দেশে আঙুর চাষ করে লাভ হবে না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। ইউটিউব দেখে এবং আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে সফলতা পেয়েছি। এখন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আঙুরের পাশাপাশি কিছু জমিতে পেয়ারার চাষও করছেন। তার এই উদ্যোগ দেখে অনেক তরুণ কৃষির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন বলেও মনে করেন তিনি।
বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী নাঈম বলেন, “বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আঙুর আমাদের এলাকাতেই এত সুন্দরভাবে চাষ হতে পারে, এটা সত্যিই অবাক করার মতো। রাহুল ভাইয়ের এই উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে।”
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “রাহুলের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষিভিত্তিক নতুন স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলা রাহুল এখন স্থানীয় তরুণদের কাছেও এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সফলতা প্রমাণ করছে—ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষিতেও গড়া যায় সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।
এ জাতীয় আরো খবর..