রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম ও নাগরিক সেবায় উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে বলে জানা গেছে।
গত ১৪ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নগরীর উন্নয়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নগর ভবনে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিয়মিত বিভাগীয় বৈঠক ও মাঠপর্যায়ের তদারকির মাধ্যমে সেবা কার্যক্রমে গতি আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরিচ্ছন্নতা ও সেবাকর্মীদের কল্যাণে ১২৩৭ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যা নগরবাসীর মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ড্রেন পরিষ্কার ও মশক নিধন কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ফগার স্প্রে কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাগরিক সেবা সহজীকরণে রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার এবং বাজার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও পুনরায় গতিশীল হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, বাজার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন, লেক উন্নয়ন ও ফোয়ারা স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সবুজায়ন কর্মসূচির আওতায় নগরীতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার, খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সবার সহযোগিতায় রাজশাহীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করার কাজ চলমান রয়েছে।
নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় গৃহীত এসব উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ জাতীয় আরো খবর..