আজকের তারিখঃ | খ্রিস্টাব্দ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে রডবাহী ট্রাকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: নওগাঁর মান্দার ১৫ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু শিশু রামিসার ধর্ষন-হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: আসামির পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী রাজশাহীতে গবাদিপশু পালন বদলে দিচ্ছে গ্রামীণ নারীর জীবন রাজশাহীতে শিশু হুমায়রার মরদেহ নিয়ে স্বজনদের বিক্ষোভ রাজশাহীতে জাল সনদে বিদ্যালয়ে নিয়োগ, এমপিও সুপারিশে উত্তাপ নাগরিক সেবায় নতুন বার্তা দিলেন আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির সিন্দু পানি চুক্তি অসম দায়বদ্ধতা, বৈষম্যমূলক ছাড় এবং পাকিস্তানের পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার দায়িত্ব গ্রহণের পরই পরিবর্তনের ছোঁয়া: উন্নয়ন ও সেবায় এগিয়ে রাজশাহী পঞ্চগড়ে যোগ দিয়েই প্রত্যাহার আলোচিত এসপি মিজানুর রহমান রাজশাহীতে থোকায় থোকায় সফলতা, আঙুর চাষে তরুণের বাজিমাত শোকের মুহূর্তে সর্বনাশ, রামেকে লাশ পরিবহণে চলছে চাঁদাবাজি রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও কালিয়াকৈরে ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মোহনপুরে উচ্ছেদ ঠেকিয়ে প্রশংসায় বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মেঘ-পাহাড়ে শান্তির প্রতীক ‘দারুস সালাম জামে মসজিদ’ আনসার-ভিডিপির কৃষি উদ্যোগে স্বপ্ন দেখছে মোহনপুরের গ্রামাঞ্চল পাহাড়ের ‘যাদুকর’ চিকিৎসক: মানবিকতায় অনন্য ডা. নয়ন ময় ত্রিপুরা টিটিসিতে তথ্য পেতে ভোগান্তি প্রশাসনের দ্বারস্থ সাংবাদিক রাজশাহী রেঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মাহমুদা শারমীন নেলী পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী নিহত, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল দুই ডাম্প ট্রাক

পবা রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, প্রতিবাদে নতুন সমিতি গঠন

রিপোর্টারের নাম: Tathya Prokash
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
  • 53 বার
ছবির ক্যাপশন:

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পবা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত ফি ও পারিশ্রমিকের বাইরে প্রতিটি দলিলে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ‘পবা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি’ নামে নতুন একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সরকারি খরচ ও দলিল লেখকের পারিশ্রমিক ছাড়াও ‘পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতি’র নামে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গত ৮ এপ্রিল ১৯ জন সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার ও জেলা রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের পরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ার দাবি করেছেন প্রতিবাদী লেখকরা।

ভুক্তভোগী দলিল লেখকদের অভিযোগ, গত ২৯ মার্চ থেকে তাদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের রশিদ অফিস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রশিদগুলো পূর্বের সমিতির নেতারা নিয়ে গেছেন।

অফিসে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, “আমার দলিলের সরকারি খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু নেওয়া হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা জানি না। আমরা যেন জিম্মি অবস্থায় আছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক জানান, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে নানাভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়।
এদিকে পরিস্থিতি ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরি হওয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। গত ২৯ এপ্রিল মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে মোজাহার আলীকে আহ্বায়ক ও রবিউল ইসলাম খোকনকে সদস্য সচিব করে ‘পবা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতি’ গঠন করা হয়।

সমিতির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম খোকন বলেন, “সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হতে দেওয়া হবে না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। রশিদ গায়েবের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

তবে ‘পবা দলিল লেখক সমিতি’র সভাপতি মো. আনারুল ইসলাম আবু ও সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সদস্যদের কল্যাণে সংগঠনের তহবিলে অর্থ জমা রাখা হয়। এটি চাঁদাবাজি নয় এবং অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার শাহীন আলী বলেন, “অফিসের রশিদ বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিক বলেন, “অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে যাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে।”

জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, “কোনো ধরনের সিন্ডিকেট সহ্য করা হবে না। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান ও আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র গাজিউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, অতিরিক্ত খরচ ও হয়রানি ছাড়াই নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
ad300