
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুরে একের পর এক সহিংসতা, বিরোধ, মাদক, জমিজমা নিয়ে সংঘাত, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, অনলাইন জুয়া, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে?
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. আবুল কাশেমকে কালিগ্রাম মোড়ের একটি চায়ের দোকান থেকে তুলে নিয়ে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
আহত আবুল কাশেমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরের চার জায়গায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। হামলায় তাঁর বাঁ হাঁটু ভেঙে গেছে বলেও স্বজনেরা জানিয়েছেন।
আহত কাশেমের ছেলে আব্দুল হালিমের অভিযোগ, তাঁর বাবা কালিগ্রাম মোড়ের জালমের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একই গ্রামের মিলন, আফসার, রুবেল ও খয়েরের নেতৃত্বে ১২-১৫ জনের একটি দল হাসুয়া, রামদা, হাতুড়ি, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে সেখানে আসে। পরে তাঁকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর ও কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে নগদ ২লাখ টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হালিমের দাবি, এলাকায় একটি সরকারি জায়গায় কবরস্থান করার উদ্যোগ নেওয়াই তাঁর বাবার ওপর হামলার মূল কারণ। তাঁর ভাষ্য, কালিগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত কবরস্থানের জায়গা নেই। গ্রামের মানুষের জন্য একটি সরকারি জায়গায় কবরস্থান করার উদ্যোগ নেন তাঁর বাবা। কিন্তু ওই জায়গা কয়েকজন ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজিম উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন একাধিকবার বসে সমাধানের চেষ্টা করেছেন।
আব্দুল হালিম আরও অভিযোগ করেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কবরস্থান তৈরির পক্ষে থাকলেও কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাবার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোকজন নিয়ে বৈঠক এবং অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে আব্দুল হালিমকেও মারধর করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আগের ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাঁর বাবার ওপর হামলার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে মোহনপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম, এসআই আনোয়ার হোসেন ও এএসআই তুহিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কাশেম আমাদের কাছের লোক। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে লিখিত এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মোহনপুরে ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমা নিয়ে সংঘাত, মাদক, অনলাইন জুয়া, পারিবারিক বিরোধ, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ ও সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।