প্রিন্ট এর তারিখঃ May 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 17, 2026 ইং
রাজশাহীতে জাল সনদে বিদ্যালয়ে নিয়োগ, এমপিও সুপারিশে উত্তাপ

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর এলাকার কাঁচুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বিতর্কিত নিয়োগ ও জাল সনদ সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুপারিশ পাঠানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তির আগেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাদের এমপিওভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি জানান, জাল সনদ ও অনিয়মিতভাবে গঠিত নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্তির কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল না।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৪ নভেম্বর দুর্গাপুর সহকারী জজ আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা (নং–১০৭/২০২৫) দায়ের করা হয়। এতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকরা বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন।
মামলায় বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
তবে অভিযোগে বলা হয়, চলমান মামলার বিষয়টি উপেক্ষা করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) লায়লা আক্তার জাহান গোপনে এমপিওভুক্তির সুপারিশ পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারীর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আদালত অবমাননার শামিল এবং সরকারি নীতিমালারও পরিপন্থী। তার আরও অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আক্তার জাহান জানান, “বিভিন্ন পক্ষের চাপের কারণে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
অন্যদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান বলেন, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্তির মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ তথ্য প্রকাশ